প্রেমের ব্ল্যাকমেইলিংয়ের অভিযোগে তরতাজা প্রাণের অকালমৃত্যু! সুমিত দে-র মৃত্যুকে ঘিরে উত্তাল কুমারঘাট, অভিযুক্ত যুবতীর ফাঁসির দাবিতে সরব এলাকাবাসীর একাংশ
প্রেমের নামে প্রতারণা, মানসিক নির্যাতন ও ব্ল্যাকমেইলিংয়ের অভিযোগ! এক তরতাজা প্রাণের মর্মান্তিক পরিণতিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে কুমারঘাটের পূর্বকাঞ্চনবাড়িতে। বেঙ্গালুরুতে কর্মরত যুবক সুমিত দে-র মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তীব্র ক্ষোভে ফুঁসছে এলাকা। পরিবারের অভিযোগ, প্রেমের সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং ব্ল্যাকমেইলিংয়ের জেরেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন সুমিত। এই ঘটনায় অভিযুক্ত যুবতীর ফাঁ*সির দাবিতে সরব হয়েছেন এলাকাবাসীর একাংশ।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, দুর্গাপূজার ছুটিতে বাড়ি ফিরেছিলেন সুমিত। এক যুবতীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে ফাটল ধরার পর থেকেই তাঁর জীবনে নেমে আসে চরম মানসিক অশান্তি। পরিবারের অভিযোগ, ওই যুবতীর ব্ল্যাকমেইলিং ও মানসিক নির্যাতনের কারণে সুমিত অসহায় হয়ে পড়েছিলেন।
গত ২৯ অক্টোবর বিষপানের পর তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দীর্ঘ চিকিৎসার পর আজ সকালে আগরতলার জিবি হাসপাতালে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন সুমিত। তাঁর এই অকালমৃত্যুতে ভেঙে পড়েছে গোটা পরিবার।
একটি পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারীকে হারিয়ে অসহায় হয়ে পড়েছেন বৃদ্ধ পিতা সত্য দে-সহ পরিবারের পাঁচ সদস্য। যে ছেলেটিকে ঘিরে ছিল পরিবারের বেঁচে থাকার স্বপ্ন, সেই ছেলেই আজ চিরতরে চলে গেল। পরিবারের এই শূন্যতা কি কোনও দিন পূরণ করা সম্ভব?
সুমিতের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন এলাকাবাসীর একাংশ। তাঁদের বক্তব্য, প্রেমের নামে কাউকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তোলা, ভয় দেখানো কিংবা ব্ল্যাকমেইল করার অভিযোগ কোনওভাবেই হালকাভাবে নেওয়া যায় না। এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোরতম আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
অভিযুক্ত যুবতীর ফাঁসির দাবিও উঠেছে এলাকায়। ক্ষুব্ধ মানুষের দাবি, তদন্তে যদি প্রমাণিত হয় যে অভিযুক্তের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের কারণেই সুমিতের মৃত্যু হয়েছে, তবে আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
প্রশ্ন উঠছে—প্রেম কি কারও জীবন ধ্বংস করার লাইসেন্স? সম্পর্কের নামে মানসিক নির্যাতন ও ব্ল্যাকমেইলিংয়ের অভিযোগ যদি সত্য হয়, তবে তা শুধু নৈতিক অবক্ষয় নয়, গুরুতর অপরাধেরও বিষয়। কারও আবেগ, বিশ্বাস ও অসহায়ত্বকে পুঁজি করে তাকে এমন পরিস্থিতিতে ঠেলে দেওয়ার অধিকার কারও নেই।
ঘটনার তদন্তে নেমেছে পুলিশ। সুমিতের পরিবারের দাবি, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।
একটি পরিবারের স্বপ্ন ভেঙে গেছে, একটি তরতাজা প্রাণ অকালে ঝরে গেছে। এখন এলাকাবাসীর একটাই দাবি—সুমিতের মৃত্যুর ন্যায়বিচার চাই, অপরাধ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ শাস্তি চাই!

